সরকারের এ যুগোপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

তৃতীয় ভাষাজ্ঞান থাকলে মিলবে ১০ লাখ টাকা ঋণ বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক হচ্ছে তৃতীয় ভাষা। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। এখন থেকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মানের মতো যেকোনো একটি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে তাদের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক কারণে স্কুল পর্যায়ে তিনটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভারতে দীর্ঘ দিন ধরে ‘ত্রি-ভাষা সূত্র’ (Three-Language Formula) নীতি চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা, হিন্দি এবং ইংরেজি বাধ্যতামূলকভাবে শিখতে হয় (অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে হিন্দির বদলে অন্য কোনো আধুনিক ভারতীয় ভাষা শেখানো হয়)।

হংকং এ সরকারি শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষায় (Trilingual) দক্ষ করে তোলা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ক্যান্টনিজ (আঞ্চলিক), ম্যান্ডারিন (চীনা) এবং ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক।
ইউরোপের লুক্সেমবার্গে দেশটিতে ভাষা শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের তিনটি অফিশিয়াল ভাষা—লুক্সেমবার্গীয়, ফরাসি এবং জার্মান শেখা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। এছাড়া পরবর্তী ধাপে ইংরেজিও শেখানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়া ও লেবাননে আরবি ভাষার (মাতৃভাষা) পাশাপাশি গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো ফরাসি এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয়, যা পরোক্ষভাবে তিন-ভাষার শিক্ষা নিশ্চিত করে। ইউনেস্কো (UNESCO) এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ থেকে ২৫টিরও বেশি দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি শিক্ষাক্রমে কোনো না কোনোভাবে ৩টি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক বা অত্যন্ত জনপ্রিয়।

Share With