কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙ্গনে অসহায় হাজারো মানুষ

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর গোড়াইপিয়ারে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অসংখ্য বসতভিটে ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে এলাকায় বন্যা দেখা দিলেও পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে।

এ ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় এক হাজার পরিবারের চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ। বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মসজিদ ও চারটি নূরানি মাদ্রাসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তা নদী খনন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিবছরই এ ভয়াবহ ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, “আমরা ত্রাণ চাই না, চাই স্থায়ী নদী সংস্কার।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক পরিবার অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাড়িঘর ও আবাদি জমি হারিয়ে জীবিকা হারানো মানুষগুলো অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, এরকম ভয়াবহ ভাঙ্গন আগে কখনো দেখেননি তারা। চর গোড়াইপিয়ারের জামে মসজিদ যে কোনো মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাও তিস্তা ভাঙ্গনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পশ্চিম বজরা, বাঁধের মাথা, উত্তর সাদুয়া দামার হাট, খামার দামার হাটের পশ্চিম পাড়, সাতালস্কর, চর বজরা, সন্তোষ অভিরাম, কাজিরচক, টিটমা, ঠুটাপাইকার, কর্পুরা, লাল মসজিদ ও অর্জুন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা দবির উদ্দিন (৬৭) জানান, তার বাড়িঘর জীবনে বহুবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এবার জামে মসজিদসহ বাড়ি হারিয়ে তিনি সম্পূর্ণ অসহায়। অনুরূপভাবে মজিবর রহমান, আইয়ুব আলী, তৈয়ব আলী, মর্জিনা বেগম ও সাজিনা বেগমসহ অনেকেই জানান, তিস্তা তাদের সব কিছু কেড়ে নিয়েছে।

স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও শিক্ষা জীবনে মারাত্মক ক্ষতির কথা জানিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির আশা মনি বলেন, “স্কুলে যেতে পারছি না, বাড়িতে পড়তেও পারছি না। তিস্তা আমাদের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে।”

থেতরাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য আজিজার রহমান জানান, এখন পর্যন্ত চর গোড়াইপিয়ারে শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়েছে। দ্রুত ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কয়েক হাজার মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়বে।

Share With