কুড়িগ্রামে ভোটের আগের দিনও অবাধে চলেছে অনুমোদনহীন যানবাহন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সামনে রেখে মোটরসাইকেল চলাচলে প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞা নাগেশ্বরীতে কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। ভোটের আগের দিন (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত নাগেশ্বরী পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সাধারণ মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সঙ্গে ট্রাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে,জেলার নাগেশ্বরী পৌরশহরের প্রধান সড়ক, বাজার এলাকা ও বিভিন্ন মোড়ে সাধারণ মোটরসাইকেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কেও একাধিক মোটরসাইকেল চলতে দেখা যায়। কোথাও তেমন কড়াকড়ি বা চেকপোস্ট চোখে পড়েনি বলে জানান স্থানীয়রা।

নাগেশ্বরী পৌরশহরের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কথা শুনেছি, কিন্তু রাস্তায় তো কোনো কড়াকড়ি দেখছি না। মোটরসাইকেল আগের মতোই চলছে।

একজন পথচারী বলেন, ভোটের আগে নিরাপত্তার জন্যই তো এসব নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ না হলে এর সুফল কী?

প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিলযোগ্য বলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জরুরি সেবা, অনুমোদিত সাংবাদিক, নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রার্থীদের নির্ধারিত যানবাহন চলাচলের অনুমতি রয়েছে। তবে বিকেল পর্যন্ত সাধারণ মোটরসাইকেল চলাচল অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে সবগুলো কি অনুমোদিত, নাকি নির্দেশনা বাস্তবায়নে শৈথিল্য রয়েছে?

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে প্রথম জানলাম। আমি ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Share With