দান ছাড়াই দাতা সদস্য, কুড়িগ্রামে মাদ্রাসা কমিটি গঠনে জালিয়াতি ফাঁস

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় জমি বা টাকা দান না করেই ‘প্রতিষ্ঠাতা’ ও ‘দাতা সদস্য’ সেজে পরিচালনা কমিটি গঠনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি প্রবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এই অনিয়মের দায় মাদ্রাসা সুপার এবং প্রস্তাবিত কমিটি এড়াতে পারেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাদ্রাসা বোর্ডে স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামানের দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, যথাযথ প্রচার ছাড়াই গোপনে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। ২০০৯ সালের প্রবিধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে হলে কমপক্ষে ছয় লাখ টাকা বা সমমূল্যের জমি দান করতে হয়। দাতা সদস্য হতে হলেও নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুল হোসেন এই শর্ত পূরণ না করা ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), আইসিটি অফিসার এবং উপজেলা সুপারভাইজারকে নিয়ে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন নথিপত্র এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ড যাচাই করে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নাম থাকা মনসুর আহমেদ স্বীকার করেছেন, তিনি প্রতিষ্ঠাকালে চেয়ার-টেবিল দিলেও কোনো জমি বা টাকা দান করেননি। দাতা সদস্য হেলাল উদ্দিনও জমি বা টাকা না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সরকারি অনুমতি ছাড়াই খাসজমিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি দেখিয়ে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্থানীয় ভূমি অফিস জমির কর নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কৃত এক ব্যক্তিকে কমিটির সভাপতি করার চেষ্টা করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুল ইসলাম জানান, নিয়মবহির্ভূতভাবে দাতা বা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করলে সেই কমিটি আইনত বৈধ হয় না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, ‘তদন্ত কমিটি প্রবিধান লঙ্ঘনের যে প্রমাণ পেয়েছে, তাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’

এদিকে, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নূরুল হক জানান, তদন্ত প্রতিবেদনটি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার আবুল হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Share With

One thought on “দান ছাড়াই দাতা সদস্য, কুড়িগ্রামে মাদ্রাসা কমিটি গঠনে জালিয়াতি ফাঁস”

Comments are closed.