বিএসএফের পুশইন চেষ্টার পর রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ৯ জন, ৭২ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবন

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে এক গভীর মানবিক সংকটের চিত্র দিন দিন আরও করুণ হয়ে উঠছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশইনের চেষ্টার শিকার হয়ে ছয় মাস বয়সী এক শিশুসহ মোট ৯ জন বাংলাভাষী মানুষ টানা প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

খোলা আকাশের নিচে, তীব্র রোদ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। মাথার ওপর সামান্য একটি প্লাস্টিকই এখন তাদের একমাত্র আশ্রয়। শিশুটির পাশাপাশি রয়েছে আরও একটি ছোট শিশু—যাদের কান্না আর কষ্টে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো সীমান্ত এলাকা।

সীমান্তের ১০৬০ নম্বর পিলারের কাছে নির্জন স্থানে আটকে থাকা এসব মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি কিংবা ন্যূনতম স্যানিটেশন ব্যবস্থা। প্রতিটি মুহূর্ত যেন তাদের জন্য বেঁচে থাকার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি নিষ্পাপ শিশুসহ নারী ও শিশুদের এমন অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে রাখা স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। শিশুদের এই দুর্ভোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সীমান্তবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের ভাষায়, “মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত সমাধান না হলে এটি বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।”

জানা যায়, গত রোববার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি বাধা দিলে তারা শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। ঘটনার পর উভয় দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিজিবির পক্ষ থেকে আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। সীমান্তের এই অসহায় মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন উঠছে—মানবিকতার দায় নেবে কে?

Share With