কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানের অপসারণ এবং মাদ্রাসার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসীর নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম-পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার এবং হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ‘সচেতন এলাকাবাসী’র ব্যানারে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত বক্তব্য ও স্লোগানের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাদেকুল ইসলাম,নুর আলম সিদ্দিকী,সালমান ফারসী সরদার, বায়োজীদ বোস্তামী সরকার ও মানিক সরকারসহ স্থানীয় আরও অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এসব অভিযোগের যথাযথ সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় এলাকাবাসী ও প্রতিবাদী ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। প্রতিবাদী কণ্ঠ রোধ করতেই এসব মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
বক্তারা আরও বলেন,একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা। সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু অভিযোগের সুরাহা না করে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই অবিলম্বে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানান তাঁরা।
প্রতিবাদ সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় জালিয়াতি ও হয়রানির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ইন্ধনে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন ব্যক্তির অনুমতি ছাড়াই তাঁদের নাম,ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানিকর,বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশ ও তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু কারও অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং সেই অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ভুয়া আইডি ও পেজ পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁরা বলেন,কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হলে তারও প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবি
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. মাদ্রাসার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী এলাকাবাসীর নামে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে।
৩. অনুমতি ছাড়া কারও নাম,ছবি ও ব্যক্তিগত পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খোলার মাধ্যমে অপপ্রচার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৪. ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বক্তারা বলেন,তাঁদের দাবিগুলো কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়; বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ সময় আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানের,তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।