মায়ের আঁচলই পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় এক অন্তহীন আকুতি


শুক্রবার আসে, শুক্রবার যায়। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলায়, ঘড়ির কাঁটা নিয়মে ঘোরে, কিন্তু কিছু মানুষের জীবনে সপ্তাহান্তের এই দিনটি নিয়ে আসে এক বুক ভারী করা শূন্যতা। প্রবাসের ব্যস্ত জীবন বা যান্ত্রিক শহরের চার দেয়ালের মাঝে যখন জুমার আজান ধ্বনিত হয়, তখন দূর পরবাসে থাকা সন্তানের মন ছুটে চলে যায় গ্রামের সেই চেনা ঘরটিতে। যেখানে অপেক্ষা করে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দটি— ‘মা’।

আজ কত দিন হয়ে গেল মায়ের সেই চেনা মুখখানি দেখা হয় না। কত দিন মায়ের হাতের পরম তৃপ্তির সেই রান্নার স্বাদ নেওয়া হয় না। মায়ের হাতের রান্নায় কী যে এক জাদু থাকে, তা কোনো নামী-দামী রেস্তোরাঁর রাঁধুনি কখনো তৈরি করতে পারে না। সেই অতি সাধারণ ডাল-ভাত কিংবা তরকারিতে মিশে থাকে এক স্বর্গীয় স্বাদ, যা কেবল একজন মায়ের ভালোবাসার ছোঁয়াতেই সম্ভব।

“মা, কি মধু কি জাদু সেজন জানে, সে জনের মা নাই ভবে।”

বাস্তবতার টানে কিংবা জীবিকার তাগিদে আজ মায়ের থেকে অনেক দূরে। কিন্তু মনটা পড়ে আছে মায়ের সেই সুতি শাড়ির আঁচলটাতে। শৈশবে বা কৈশোরে খেয়ে দেয়ে মায়ের পরনের সেই আঁচলে মুখ ও হাত মোছার মাঝে যে কী এক গভীর শান্তি আর অধিকার লুকিয়ে ছিল, তা আজ এই যান্ত্রিক শহরে বড্ড বেশি মনে পড়ে। সেই আঁচলের সুবাস যেন পৃথিবীর সব সুগন্ধিকে হার মানায়।

পৃথিবীতে সম্পর্কের টান অনেক রকম হতে পারে, কিন্তু সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে, জীবনের একমাত্র অবিচল অবলম্বন হলেন মা। জীবনের কঠিন মুহূর্তে, ব্যর্থতার গ্লানিতে কিংবা একাকীত্বের চরম কোলাহলে যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হয়, তখন মায়ের ওই এক চিলতে হাসিখানা আর আশ্বস্ত করা কণ্ঠস্বরই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার একমাত্র শক্তি। মা-ই সন্তানের শেষ আশ্রয়, মা-ই বেঁচে থাকার মূল অবলম্বন।

যাঁদের মা পাশে আছেন, তাঁরা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ। আর যাঁরা দূর থেকে মায়ের জন্য বুকফাটা আর্তনাদ বুকে চেপে হাসিমুখে দিন পার করছেন, তাঁদের প্রতিটি শুক্রবার কাটে এক অদ্ভুত একাকীত্বে আর মায়ের কাছে ফেরার তীব্র আকুতিতে। মায়ের ভালোবাসা চিরন্তন, মায়ের ছায়া পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিরাপদ দুর্গ।

Share With