মধ্যপ্রাচ্যের সমসাময়িক ইতিহাসে বড় জায়গা করে নিয়েছেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। তাঁর শাসনামলে অস্থির সময় পার করেছে গোটা অঞ্চল। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে তাঁর অবস্থান ছিল দৃশ্যত মার্কিনবিরোধী। আদতে কি তাই? নাকি নিজের একরোখা মনোভাব আর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরব বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য পোক্ত করার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন সাদ্দাম। ইরান ও কুয়েতে হামলা করার মাধ্যমে তিনি কার্যত আরব বিশ্বকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঠেলে দিয়েছিলেন।
১৬ জুলাই। ১৯৭৯ সালের এই দিনে সাদ্দাম হোসেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর টানা প্রায় ২৫ বছর তিনি ইরাক শাসন করেন। এ সময়ে তিনি প্রতিবেশী দুটি দেশে আগ্রাসন চালান। সংঘাতে জড়ান ইসরায়েলের সঙ্গেও। তাঁর বিরুদ্ধে নিজ দেশের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
কৃষক পরিবার থেকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে তিকরিত শহরের পাশে ১৯৩৭ সালের ২৮ এপ্রিল এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে সাদ্দামের জন্ম। জন্মের আগেই তাঁর বাবা মারা যান। বাগদাদে চাচার কাছে থেকে বড় হয়েছেন তিনি। ২০ বছর বয়সে ইরাকের বাথ পার্টিতে যোগ দেন। বছর দুয়েকের মাথায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সাদ্দাম ও তাঁর দলীয় সহযোগীরা। আহত অবস্থায় পালিয়ে যান সিরিয়ায়, এরপর মিসরে।
সাদ্দাম মিসরের কায়রো ল স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৯৬৩ সালে ইরাকে বাথ পার্টি ক্ষমতায় আসে। দেশে ফেরেন সাদ্দাম। ভর্তি হন বাগদাদ ল কলেজে। ওই বছরই ক্ষমতা ছাড়তে হয় বাথ পার্টির সরকারকে। সাদ্দামকে কারাগারে যেতে হয়। কয়েক বছর বন্দী ছিলেন তিনি।
একপর্যায়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাদ্দাম। দলের নেতা হন তিনি। ১৯৬৮ সালে বাথ পার্টি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় আসে। এতে নেতৃত্ব দেন সাদ্দাম। তবে ওই সরকারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আহমাদ হাসান আল-বকর। ১৯৭৯ সালের ১৬ জুলাই তাঁকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নেন সাদ্দাম।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হয়। তবে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরাকের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তৎপর হয় ওয়াশিংটন। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে বাগদাদে সাদ্দামের সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাৎ হয় মার্কিন বিশেষ দূত ডোনাল্ড রামসফেল্ডের।