কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় সড়ক সংস্কারকাজে দীর্ঘসূত্রতা ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে শহরের জাহাজমোড় ও হরিকেশ এলাকায় সংস্কারাধীন সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পৌরসভার সদ্য যোগদানকারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফজলে রাব্বি। তিনি উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সড়ক সংস্কারের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। ধুলাবালি ও খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে চলাচল দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সংস্কারের নামে সড়ক খুঁড়ে রেখে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ধুলাবালির কারণে দোকানে বসা কঠিন হয়ে পড়েছে, ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।
জাহাজমোড় এলাকার বাসিন্দা সঞ্জু মিয়া বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে সেগুলো সহজেই ভেঙে ধুলায় পরিণত হচ্ছে। এতে পুরো এলাকা ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
হরিকেশ এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা কমিশনের মাধ্যমে বিষয়টি উপেক্ষা করছেন। তিনি এই কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানান।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী নুরজামাল বলেন, ধুলার কারণে খাবার সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে, ক্রেতা কমে গেছে এবং কর্মচারীরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার ইনসান আলী জানান, সড়ক সংলগ্ন ড্রেন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ড্রেনের কাজ শেষ হলেই দ্রুত সড়ক সংস্কার সম্পন্ন করা হবে এবং ধুলা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পৌরসভার সিইও ফজলে রাব্বি বলেন, ধুলা নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে কাজের মান উন্নত না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।